ফেইসবুক আইডি হ্যাকিং রোধে পরামর্শ

0 16

ইদানিং দেখা যাচ্ছে যে, স্যোসাল নেটওয়ার্ক, বিশেষ করে ফেইসবুক/ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্টগুলোতে হঠাৎ করে হ্যাকিং এর পরিমাণ আশংকাজনক হারে বাড়ছে । বেদখল বা হ্যাকড হওয়া প্রোফাইল নিয়ে নানা অপকর্ম যেমন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট , ব্ল্যাকমেইলিং, সম্মানহানি, চাঁদাবাজি সহ ব্যাপক হারে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বেড়েছে । এমতাবস্থায় আপনার ফেইসবুক/ইনস্টাগ্রাম আইডির সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা খুবই জরুরি। এ লক্ষে স্যোস্যাল নেটওয়ার্ক বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা নিম্নোক্ত বিষয় গুলো অনুসরণ করুনঃ

১) দুর্বল পাসওয়ার্ড যেমন আপনার ফোন নম্বর , নাম ও ফোন নম্বর (যেমন tahxxx015xxxxxxx), উল্টো করে দেয়া ফোন নম্বর , এস এসসি/এইচএসসি পরীক্ষার রোল/রেজিঃ নং, প্রিয়জনের নাম বা নামসহ ফোন নম্বর , সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা তাদের রেজিমেন্ট নম্বর বা বাহিনীর নাম+রেজিমেন্ট নম্বর , ১১২২৩৩৪৪৫৫৬৬, ০৯৮৭৬৫৪৩২১, নাম+৫৪৩২১,নাম+০৯৮৭৬, নাম+১২৩৪৫, নিজের প্রিয় বাইকের রেজিঃ নং, বাটন ফোনে নাম অনুসারে বাটন নং (Tahsin—–824746), ব্যাবহার করা থেকে বিরত থাকুন । যদি ইতিপূর্বে ব্যাবহার করে থাকেন তাহলে অতি সত্বর পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে ফেলুন ।

২) #Two_factor_authentication অন করুন।

এটি অন করতে Settings >> Security and Login এ গিয়ে আপনার ব্যবহৃত ব্যাক্তিগত নাম্বারটি অ্যাড করে দিন । ফলে পাসওয়ার্ড হ্যাক করা সম্ভব হলেও আপনার আইডিতে কেউ ঢুকতে পারবে না। কারন অপরিচিত বা নতুন কোন ব্রাউজার থেকে লগইন এর চেষ্টা করা হলে আপনার ব্যাক্তিগত নাম্বার এ একটি ভেরিফিকেশন কোড যাবে যা কারো সাথে ই শেয়ার করবেন না। বিকাশের ভেরিফিকেশন কোড নিজের বোকামীতে কেউকে বলে দিলে কিছু টাকা খোয়াবেন , কিন্তু এই কোড কাউকে দিলে আপনার মান ইজ্জত সব খোয়াবেন। অতএব, বিদেশ ভ্রমনের সময় কিছু অতিরিক্ত কোড জেনারেট করে রাখুন, যাতে জরুরী সময় ব্যবহার করা যায় , কারন দেশের বাইরে আপনার রোমিং সার্ভিস চালু নাও থাকতে পারে।

২. গোপনীয় ও সেন্সেটিভ কনভারসেশনগুলো সাথে সাথে মুছে ফেলুন। হ্যাকড হয়ে গেলে এইসব কনভারসেশনগুলো দিয়ে হ্যাকাররা ব্ল্যাকমেইল করতে পারে বা ফিনান্সিয়াল তথ্য গুলো হাতিয়ে নিয়ে আপনার ক্ষতি করতে পারে। তাই , প্রয়োজনে ম্যাসেঞ্জারে সিক্রেট কনভারসেশন অন করে রেখে চ্যাটিং করুন।

৩) ফিশিং লিংক গুলো চিনতে চেষ্টা করুন এবং এভোয়েড করুন।

৪) ইমেইলে কোনো অপরিচিত লিংক আসলে পুরোপুরি নিশ্চিত না হয়ে কোনো মতেই ওপেন করবেন না ।

৫) আপনার নিজের প্রোফাইলের লিংকটি মনে রাখুন এবং নিউমেরিক আইডিটি কোথাও টুকে রাখুন, যাতে হ্যাকড হয়ে গেলেও এটা রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

৫.) জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট কপি অজ্ঞাত কাউকে দিবেন না বা যাকে দিচ্ছেন তাকে এই কপির অপব্যবহার রোধে সতর্ক করুন, নাহলে এই কপি ব্যবহার (submit) করে স্পামাররা আপনার আইডি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে।

৬) অতি স্মার্ট ভাব দেখানোর জন্য স্মার্ট আইডি কার্ডের ছবি ফেসবুকে আপলোড হতে বিরত থাকুন । আইডি কার্ডের ছবি আপলোড দেয়া আর নিজের পশ্চাত্ দেশে নিজেই বাঁশ দেয়া সমান ।

৭) নিজ প্রোফাইলের নাম , জন্ম তারিখ ও সাল ভোটার আইডি কার্ড অনুযায়ী দেয়ার চেষ্টা করুন । আইডি বেহাত হলে রিকভারে এটা অবশ্যই দরকারী ।

৮) Settings এ ঢুকে Security and Logon এ WHERE YOU’RE LOGGED ON দেখুন অপরিচিত কোন ডিভাইস থেকে আপনার আইডি ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা? হয়ে থাকলে সেই ডিভাইসগুলো রিমুভ করে দিন ।

৯) লগইন নোটিফিকেশন অন করে রাখুন , যাতে অন্যকেউ আপনার আইডিতে লগইন করলে আপনার কাছে নোটিফিকেশন চলে আসে।

১০) Settings >> Security and Logon >> SETTING UP EXTRA SECURITY এখানে ৫ জন trusted contact যোগ করে রাখুন যারা আপনার অতি ঘনিষ্ঠ । আইডি হ্যাক হলে রেফারেন্স হিসেবে তাদের আইডি থেকে রিপোর্ট/হেল্প অতি প্রয়োজনীয়।

১১) যে ইমেইল আইডি দিয়ে ফেইসবুক প্রোফাইল খুলেছেন সেটার পাসওয়ার্ড মনে রাখুন এবং সেটা নিরাপদে রাখুন। সেটারও টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করুন। অনেক পুরনো Yahoo মেইল দিয়ে প্রোফাইল খুলে থাকলে এখুনি Yahoo মেইল টি পরিবর্তন করে Gmail বা অন্য কোন নিরাপদ ইমেইল ব্যবহার করুন। Yahoo মেইল টি সহজে হ্যাকড হতে পারে, এটা Yahoo এর একটি দূর্বলতা।

১২) তারপরেও যদি হ্যাকিং হয় , তাৎক্ষণিকভাবে আপনার নিকটস্থ থানায় জিডি করে রাখুন।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.