ফেসবুক আজ সর্ববৃহত সামাজিক নেটওয়ার্ক।

0 26

প্রযুক্তির কল্যাণে ফেসবুক আজ সর্ববৃহত সামাজিক নেটওয়ার্ক ।  এ নেটওয়ার্ক এখন এতটাই জনপ্রিয় যে, যাবতীয় সামাজিক যোগাযোগ ছাড়াও অনলাইন মার্কেটিং এবং বিভিন্ন যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে এটিকেই বেছে নেয়া হয় ।  সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম একটি মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক আজ প্রতিষ্ঠিত।  কিন্তু ফেসবুকের একদিকে যেমন ভালো দিক রয়েছে, তেমনি রয়েছে মন্দ দিকও ।বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। প্রাচীন যুগ, লৌহ যুগ পাড়ি দিয়ে আদম সন্তান এখন যান্ত্রিক যুগে বাস করছে। মূলত এই যান্ত্রিক যুগের সূচনা বিগত শতাব্দীর আশির দশকে। ৩০ বছরে পৃথিবীর যে রূপ বৈচিত্র্য লাভ করেছে, তা ৩০০ বছরেও সম্ভব হয়নি। পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে জ্ঞানবিজ্ঞান আবিষ্কার অর্জনের মধ্য দিয়ে। পৃথিবীর এই উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বিপ্লবী ভূমিকা রাখছে সারাবিশ্বের তরুণসমাজ। পৃথিবী তারুণ্যের হাত ধরে এগিয়ে যাচ্ছে শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিতে এবং সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশের  তরুণরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন ফেসবুক-ইন্টারনেটে। কী করছেন ফেসবুকে বাংলাদেশের তরুণরা? জ্ঞানচর্চা? তথ্য সংগ্রহ? নাকি অন্যকিছু? আধুনিক যুগে সর্ম্পকের ক্ষেত্রে ভিন্নমাত্রা এনেছে ফেসবুক। প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করেছে, হাজার হাজার মাইল দূরের মানুষকে করেছে কাছের বন্ধু। আশ্চর্যজনকভাবে টেলিফোন, টেলিগ্রাম অথবা ডাক বিভাগের সাহায্য ছাড়াই আমরা আমাদের মনের কথা পুরো পৃথিবীকে জানিয়ে দিতে পারছি।  কিন্তু এর চক্করে আমাদের পাশের বন্ধুগুলো হয়ে গেছে দূরের মানুষ। এমনটা কখন হয়েছে, তা যেন আমরা নিজেরাও জানি না! সত্যিই তাই।একটা সময় ছিল যখন মনের মানুষের একটু খোঁজ-খবর পাওয়ার জন্য মানুষ উদগ্রীব হত,অপেক্ষায় পথ চেয়ে থাকত, প্রহর গুনত কবে কোন দিন বন্ধুর সাথে দেখা হবে। সে সময় বন্ধুত্ব হত পত্র মিতালীতে, বন্ধু ছিল হাতে গোনা। আজ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। আজো একইভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে দু’ভাবে- ইতিবাচক ও নেতিবাচক। তাই তথ্যপ্রযুক্তিকে নিয়ে মানুষের মনে নানা প্রশ্ন। সেই সাথে থেকে গেছে সেই পুরনো প্রশ্ন- তথ্যপ্রযুক্তি কি আশীর্বাদ না অভিশাপ? এখানেও তথ্যপ্রযুক্তিকে যথার্থ কারণে আশীর্বাদ হিসেবেই মানুষ নিয়েছে সমধিক মাত্রায়। তথ্যপ্রযুক্তিকে আজ মানুষ বিবেচনা করছে উন্নয়নের মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে। আর তথ্যপ্রযুক্তি হচ্ছে বিজ্ঞানের বাণিজ্যিক শাখা। তাই তথ্যপ্রযুক্তিকে অস্বীকার করার অপর অর্থ, বিজ্ঞানকেই অস্বীকার করা, যা করার কোনো অবকাশ নেই। এ পৃথিবীকে বসবাসযোগ্য রাখতে এবং বিশ্বের অন্যান্য জাতির সাথে সমতালে চলতে হলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে ব্যক্তি, সমাজ ও জাতীয় জীবন থেকে বাদ দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। বর্তমানে পৃথিবীর ৪২.২ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহারের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। ধারণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালের শেষ নাগাদ পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক লোক ইন্টারনেট সংযোগের আওতায় আসবে | বিটিআরসির (BTRC) হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে ২০১৫ সালের আগস্টে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় চার কোটি আট লাখ। ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় তিন কোটি। প্রতি ১২ সেকেন্ডে একটি করে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলা হচ্ছে যেটা বাংলাদেশের জন্মহারের চেয়েও বেশি। বর্তমানে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় সাত কোটি ৷ আর মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১২ কোটিরও বেশি ৷ সাত কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর  ছয় কোটিই ইন্টারনেট ব্যবহার করেন মোবাইল ফোনে ৷ এই ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের প্রায় তিন কোটি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসবে ফেসবুক ব্যবহার করে ৷ বিজ্ঞানের প্রত্যেকটা আবিষ্কারের দুটি দিক রয়েছে। ইতিবাচক এবং নেতিবাচক। এগুলো নির্ভর করে ব্যবহারকারীর ব্যবহারের ওপর। আমরা যদি ফেসবুককে শিক্ষার মাধ্যম, বৈষম্য দূরীকরণের হাতিয়ার, অসহায় গরিব লোকদের সহযোগিতার মাধ্যম কিংবা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করি তবে এটি আমাদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে। আর আমরা যদি এটাকে প্রতারণার মাধ্যম, মিথ্যাচার, গুজব কিংবা অযথা সময় নষ্ট করার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করি তাহলে সেটি হবে আমাদের জন্য নেতিবাচক। আসুন, আমরা ফেসবুক ব্যবহারে সচেতন হই। ফেসবুকের মাধ্যমে গুজব ছড়ানো, মিথ্যাচার এবং প্রতারণা থেকে বিরত থাকি। এটির শিক্ষণীয় এবং কল্যাণকর দিকগুলো কাজে লাগানোর চেষ্টা করি। সর্বোপরি এটিকে দেশ ও জাতির কল্যাণে ব্যবহার করতে সচেষ্ট হই।

Leave A Reply

Your email address will not be published.