সফলতার জন্য কি কি করা প্রয়োজন ।

0 21

নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী ভাবনা চিন্তা- প্রথমেই আমাদের যে বিষয়টি মনে রাখতে হবে তা হল, সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে হয় আমাদের ধাপে ধাপে, একটু একটু করে। সুনির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনা এবং ছক নির্মাণের মধ্যে দিয়ে। সেজন্য ছোট কিন্তু সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হয়। কেবল “আমি ক্লাসে ফার্স্ট হবো!” বা “কাজের জায়গায় আমি প্রশংসা পাব” এমন ভাবলেই তো কাজ হবে না! ফার্স্ট হতে হলে কী কী করতে হবে, কাজের ক্ষেত্রেও সাফল্য লাভ করতে গেলে ঠিক কী কী করা প্রয়োজন, সেটা ঠিক করতে হবে একইসঙ্গে। ক্লাসে পড়ার প্রতি মনোযোগী হওয়া, একইসঙ্গে প্রতিদিনের পড়াটা প্রতিদিন শেষ করে নেওয়া আবার অফিসে নিজের কাজের প্রতি বিশেষ যত্নশীল হওয়া, আরও বেশি করে নিজেকে সেই কাজের মধ্যে ডুবিয়ে ফেলা। এভাবে সুনির্দিষ্ট ছোট্ট ছোট্ট লক্ষ্য পূরণ করতে করতেই একটি বড় সাফল্যের দেখা সম্ভব বলেই মনে হয়।প্রাথমিকভাবে ক্লাসের সেরা ছাত্রটিকে দেখে মনে হতে পারে সে কতই না মেধাবী, কতই না ভাগ্যবান! কিন্তু এই অবস্থানে পৌঁছাতে তাকে যে কত নির্ঘুম রাত পাড়ি দিতে হয়েছে তার খবর ক’জন রাখি? ভাগ্য বলে কিছু নেই, প্রস্তুতি ছাড়া সাফল্য মেলে না।আমরা প্রত্যেকেই শান্তিপূর্ণ জীবনের পাশাপাশি জীবনে প্রত্যাশিত সাফল্য লাভ করতে চাই। কিন্তু একইসঙ্গে আমরা আর একটা বিষয়ও জানি যে সাফল্য হচ্ছে এমন একটা প্রক্রিয়া, যা কখনওই একজন মানুষ, একদিনে আয়ত্ত করতে পারে না। এটি একটি নিবিড়, দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া এবং এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে বিশেষভাবে যুক্ত থাকে একজন মানুষের নিরসল প্রচেষ্টা এবং উচ্চাশা। তবে জীবনে সাফল্য লাভ করার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ের কথা আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে এবং এই আলোচনাটিও সেই বিষয়েই।

জীবন অনেক কঠিন, কিন্তু নিজেকে তার চেয়েও কঠিন মনে করুনঃ

কঠিন জীবন সহজ করার উপায় একটাই – নিজেকে কঠিন থেকে কঠিনতর করে তোলা। জীবন আমাদের নানান অদ্ভুত অসহায় অসহ্য পরিস্থিতির সামনে দাঁড় করায়। জীবনের নিয়মই এই। জীবন মানুষকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা করে; সহ্যের পরীক্ষা, ধৈর্যের পরীক্ষা, সামর্থ্যের পরীক্ষা। এত এত পরীক্ষার মাঝে হতাশ হয়ে পড়া অস্বাভাবিক না। তবে মনে রাখবেন, সাফল্যের কোনো শর্টকাট রাস্তা নেই। তার জন্য আপনাকে এই দীর্ঘ সমস্যাবহুল, পরীক্ষাসাপেক্ষ রাস্তার মধ্য দিয়ে যেতেই হবে। নিজেকে শক্ত করুন। আপনি পারবেন, পারতে যে হবেই! টিকে থাকার জন্য আপনাকে পারতেই হবে, নিজের লক্ষ্যে পৌঁছনোর জন্য পারতে হবে, ছোট ছোট ছেলেমানুষি স্বপ্নগুলিকে সত্যি করার জন্য পারতে হবে।

জীবনে কখনও কখনও ঝুঁকি নিতে শিখুনঃ

আপনি যদি জীবনে সঠিক সময়ে ঝুঁকি নিয়ে না জানেন তবে আপনার সফলতা একটু দেরিতেই আসবে। কারণ আপনি যে সুযোগের অপেক্ষা করছেন তা আপনি নিজে তৈরি করে না নিতে পারলে কেউ করে দেবে না। বরং সুযোগ একেরপর এক হারাতেই থাকবেন।

ভয় বনাম জড়তাঃ

আপনি সবার সামনে কথা বলতে ভয় পান। আবার যা বলতে চান তা ঠিকমতো বলতে পারেন না। সফল ব্যক্তিরা নিজের ভয়কে জয় করতে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আপনি যে বিষয়ে ভয় পান, সে বিষয়টিকে ভয় হিসেবে মনে করলে আজীবনই তা আপনার জন্য জড়তা। ভয় কাটিয়ে জড়তা এড়িয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন।

নীরবে কাজ করে যাব, আমার কাজই একদিন চিৎকার করে সবার নজর কাড়বেঃ

যতই নিঃস্পৃহ, যতই উদাসীন হই না কেন নিজের একটা পরিচিতি আমরা সবাই চাই। সবাই আমাকে এক নামে চিনুক, আমাকে জানুক – এমন একটা গোপন ইচ্ছা কম বেশি আমাদের সবারই থাকে। এই সুযোগটা আপনি পেতে পারেন শুধুমাত্র আপনার কাজের মাধ্যমে। আপনার কাজই আপনাকে পরিচিতি এনে দেবে; আপনার পরিশ্রম, আপনার মেধার স্বীকৃতি পাইয়ে দেবে আপনার কাজ। শুধু চুপচাপ কাজ করে যান আর দেখে যান, আপনার নিজের কর্মই আপনাকে টেনে নিয়ে যাবে সাফল্যের দিকে। যতই উপেক্ষা আসুক আপনার কাজ আপনার পরিচয় জানান দেবেই। আপনাকে কেউ আটকাতে পারবে না, কেউ দমাতে পারবে না।

আমি কখনোই আশা হারাবো না, কারণ কাল কি হবে আমি জানি নাঃ

‘আশায় বাঁচে চাষা’ – শুধু চাষী নয়, আমরা সবাই আশায় আশায় বেঁচে থাকি। কাল আরো ভাল কিছু হবে, এরপর থেকে সব ঠিকঠাক চলবে এমন হাজারো আশা আমাদের বেঁচে থাকার শক্তি যোগায়, সাহস যোগায়। যে মুহূর্তে আপনি ভাবছেন সব হারিয়ে ফেলেছেন, সব শেষ; কে জানে হয়তো তার পরমুহূর্তেই আপনার জন্য অপেক্ষা করছে দারুণ বিস্ময়কর কিছু! কে বলতে পারে হয়ত নিকষ কালো রাত্রের পর ভোরের উষ্ণতা নিয়ে দেখা দেবে কোনো নতুন সম্ভাবনা। লেগে থাকুন, কাল আপনার সাথে কি হবে তা আপনি জানেন না, আমরা কেউ জানি না। সব ব্যর্থতা মুছে গিয়ে সাফল্য আসবেই, শুধু একটু সময়ের অপেক্ষা, আরো একটু ধৈর্যের পরীক্ষা।

বাজে অভ্যাসগুলো ছাড়তে হবে, আমি আমার পরিশ্রমের ফল সুস্থভাবে দেখে যেতে চাইঃ

বাজে অভ্যাসগুলো খানিকটা অক্টোপাসের মতন। আষ্টেপিষ্ঠে জড়িয়ে রাখে, যতই ছাড়াতে চাইবেন, ততই আরো কঠিনভাবে আপনাকে জড়িয়ে ধরবে। ভালো বা খারাপ, যেকোনো অভ্যাসে একবার অভ্যস্ত হয়ে গেলে তা থেকে মুক্তি পাওয়া বেশ কঠিন। ধূমপান, মদ্যপানের মত অভ্যাস শুধু অর্থের অপচয়ই করে  না, আপনার কার্যক্ষমতা হ্রাস করে, শুষে নেয় আপনার জীবনীশক্তি। তাই আজই প্রতিজ্ঞা করুন, বাজে অভ্যাসগুলো ছেড়ে দেবেন, তাতে যত কষ্টই হোক। নিজের কঠোর পরিশ্রমের ফল সুস্থভাবে উপভোগ করার জন্য হলেও খারাপ অভ্যাস ছেড়ে ভালো অভ্যাস গড়ে তুলুন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.