সৌদি বাদশাহ এইবার বরখাস্ত করলেন ২ দুই প্রিন্স ও পাঁচ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাকে

0 12

২০১৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর পঁয়ত্রিশ বছরের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান রক্ষণশীল দেশ সৌদি আদবে বেশ কিছু অর্থনৈতিক এবং সামাজিক সংস্কার আনার কারণে বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হন। তবে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটেছিল ২০১৭ সালে যখন রাজপরিবারের অনেক সদস্য, মন্ত্রী এবং ব্যবসায়ীকে রিয়াদের রিটজ-কার্লটন হোটেলে আটকে রাখা হয়। পরবর্তীতে সৌদি আরবের রাষ্ট্রের তহবিলে ১০৬.৭ বিলিয়ন ডলার দেয়ার সমঝোতায় তাদের বেশিরভাগকে ছেড়ে দেয়া হয়। এর আগে এই বছরের শুরুর দিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল যে, বাদশাহর ছোট ভাই প্রিন্স আহমেদ বিন আবদুলাজিজ ও সাবেক যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়িফসহ তিনজন জ্যেষ্ঠ রাজ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।এবার সৌদি রাজপরিবারের দুই সদস্যসহ ছয় প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছেন বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ। দুর্নীতির অভিযোগে মঙ্গলবার রাজকীয় এক ডিক্রি জারি করে তাদের বরখাস্ত করা হয়। সেই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে একটি তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রাজকীয় ফরমান মতে, ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের যৌথ বাহিনীর কমান্ডার যুবরাজ ফাহাদ বিন তুর্কিকে অব্যাহতি দিয়েছেন সৌদি বাদশাহ। তার ছেলে আবদুল আজিজ বিন ফাহাদকেও উপ-গভর্নরের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে ‘সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনে’ অভিযুক্ত হয়েছেন আরও চার কর্মকর্তা। প্রত্যেককেই এখন তদন্তের মুখোমুখি করা হবে। মূলত সৌদির সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বেই ‘দুর্নীতিবিরোধী অভিযান’ চলছে। তবে পর্যবেক্ষকদের দাবি, ক্ষমতা ধরে রাখার পথে যেন বাধা সৃষ্টি না হয় সেজন্য শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের গ্রেফতার করছেন মোহাম্মদ।চলতি বছরের শুরুর দিকে মার্কিন প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সৌদি আরবের বাদশাহ সালমানের ছোট ভাই প্রিন্স আহমেদ বিন আব্দুল আজিজ ও সাবেক ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নায়েফ-সহ রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠ তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।তবে সবচেয়ে আলোচিত ধরপাকড়ের ঘটনা ঘটে ২০১৭ সালে। ওই সময় সৌদি রাজপরিবারের কয়েকজন সদস্য, মন্ত্রী এবং শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীদের রিয়াদের রিৎজ-কার্লটন হোটেলে আটকে রাখা হয়। যদিও পরবর্তীতে সৌদির সরকারি তহবিলে ১০৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেয়ার বিনিময়ে তাদের বেশিরভাগই ছাড়া পান। ২০১৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর ব্যাপক রক্ষণশীল সৌদি আরবে বেশ কিছু অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কার এনে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হন ৩৫ বছর বয়সী ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। তবে ২০১৮ সালের অক্টোবরে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ড, সৌদির সাবেক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে কানাডায় হত্যার ষড়যন্ত্রসহ বেশ কিছু কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগ আছে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে। ইয়েমেনে সংঘাত অব্যাহত রাখার কারণে সমালোচনার মুখে আছেন সৌদির এই প্রিন্স। দেশটিতে সরকারপন্থী বাহিনীকে সমর্থন দিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এছাড়া দেশে নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়া হলেও নারী মানবাধিকার কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর আচরণের কারণেও সমালোচনায় আছেন সৌদি যুবরাজ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.