সফল তরুণ উদ্যোক্তা মি. শাব্বির আহমেদ বকশি।

0 12

মি. শাব্বির আহমেদ বকশি’র ছোটবেলা কেটেছে সিলেট জেলার চা পাতা ঘেরা সবুজ বনানীতে। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে চতুর্থ সন্তান তিনি। ছোটবেলা থেকেই পড়াশুনায় মেধাবী এই ব্যবসায়ী পড়াশুনা করেছেন লন্ডন মেট্রোপলিটন কলেজে কম্পিউটার সাইন্স বিষয়ে। অথচ প্রথমে পেশা হিসাবে বেছে নেন ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স-এর কাজ। এখানেই পাঁচ বছর কাজ করে অনেক বাস্তব অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ডিসিপ্লিন, কমিটমেন্ট রক্ষা করা, বেটার সার্ভিস, দেশপ্রেম শেখেন ও বিভিন্ন মহলের গণ্যমাণ্য ব্যক্তিদের সঙ্গে পরিচয় ঘটান। অবশেষে তিনি হয়ে উঠলেন সফল ব্যবসায়ী।আমাদের দেশ তৃতীয় বিশ্বের একটি স্বল্পোন্নত দেশ।উত্তরার প্রধান সড়কে অবস্থিত জনপ্রিয় আবাসিক হোটেল ‘গ্র্যান্ড ঢাকা হোটেল লি.’ এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর তিনি। এছাড়া তাঁর রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীতে সকল ধরনের পণ্য সাপ্লাইয়ের ব্যবসা। হসপিটালিটি ও সাপ্লাই দুই ধরনের ব্যবসাতেই তিনি এখন অপ্রতিদ্বন্দ্বি। মাত্র ৩২ বছর বয়সে তাঁর মতো প্রতিষ্ঠিত ও সফল ব্যবসায়ী হওয়া আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বিরল ঘটনা। তাই তিনি হয়ে উঠেছেন দেশের অসংখ্য তরুণের আইকন।  প্রতি বছর অসংখ্য তরুন-তরুনী উচ্চশিক্ষা শেষ করে কর্মসংস্থান না করতে পেরে দিশেহারা হয়ে পড়ছে। যেখানে বেশ বড় অংকের তরুণ-তরুণী নিজেদের সংসারের হাল ধরতে নাজেহাল অবস্থা পার করছেন সেখানে কিছু তরুণ সমাজে উজ্জ্বল দৃষ্ঠান্ত স্থাপন করেছেন। তেমনি একজন সিলেটের গর্বিত সন্তান মি. শাব্বির আহমেদ বকশি। তিনি একজন তরুণ হয়েও বর্তমানে ঢাকার একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী।নিজের এই সফলতার মূলমন্ত্র কি জানতে চাইলে শাব্বির আহমেদ বকশি বলেন, ‘‘আমার ‘গ্র্যান্ড ঢাকা হোটেল লি.’ আজকের অবস্থানে এসেছে অল্প কিছু কারনে। আর তা হলো সবাই আমরা পরিবারের মতো আপন হয়ে কাজ করি। যার যার জায়গায় সৎ। আর গ্রাহককে আমরা সবচেয়ে কম রেটে সর্বোচ্চ সেবাটা দিতে চাই। সেবার মানের ক্ষেত্রে কিছুতেই কার্পণ্য করি না আমি।’কিভাবে তাঁর এই ব্যবসায়িক জীবনে আসা, জানতে চাইলে মি. শাব্বির আহমেদ বকশি বলেন, ‘এয়ারলাইন্সে কাজ করার সময় আমার এলাকা সিলেট থেকেই মাসে ১০ থেকে ১৫ দিন হোটেল বুকিংয়ের অনুরোধ আসত। তাই ভাবলাম, নিজেই একটা হোটেল গড়ে তুলি। সেভাবেই প্ল্যান করে এগিয়েছি। প্রথমে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। এতে আমার চার ভাই আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন। তবে আমি সবচেয়ে কৃতজ্ঞ আমার বাবা মরহুম হাজী আব্দুল মুকিত-এর কাছে। তিনি আমাকে সৎ ও পরিশ্রমী হতে শিখিয়েছেন।’আজকের অবস্থানে এসেছে অল্প কিছু কারনে। আর তা হলো সবাই আমরা পরিবারের মতো আপন হয়ে কাজ করি। যার যার জায়গায় সৎ। আর গ্রাহককে আমরা সবচেয়ে কম রেটে সর্বোচ্চ সেবাটা দিতে চাই। সেবার মানের ক্ষেত্রে কিছুতেই কার্পণ্য করি না আমি।’যেহেতু নিজেদের এলাকার মানুষের কথা বিবেচনা করে ‘গ্র্যান্ড ঢাকা হোটেল লি.’ গঠন করা তাই শাব্বির সাহেব সিলেটের লোকদের প্রায় ৫০% ডিসকাউন্ট দিয়ে থাকেন সার্ভিসের ক্ষেত্রে। আর তার সবচেয়ে ভালো দিক হলো তিনি অসহায় ও প্রতিবন্ধি বাচ্চাদের প্রতি মাসে সাহায্যের জন্য অর্থ দান করেন। তিনি চান সমাজে বিভেদ দূর হয়ে সবাই সুস্থ, সুন্দর মতো বাচুক।’ব্যবসায়ী হলেও খুবই বিনোদন প্রিয় এই মানুষটি। অবসরে গলফ খেলতে ভীষণ ভালোবাসেন তিনি। আর সিলেট অঞ্চলের ফোঁক গান তাঁর ভ্রমনের সঙ্গী। সাব্বির আহমেদ বকশি’র মতো এতো কম বয়সে সফল ব্যবসায়ি হতে গেলে তাঁর জীবন থেকে অনেকেই অনুপ্রাণীত হতে পারেন বলে বিশ্বাস করি।

Leave A Reply

Your email address will not be published.