আদালতের রায় এক টাকা না দিলে তিন মাসের হাজতবাস।

0 11

বিচারপতি অরুণ মিশ্রের বেঞ্চ সোমবার জানায়, আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণকে আদালত অবমাননার দায়ে শাস্তি হিসাবে এক টাকা জরিমানা দিতে হবে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই জরিমানা আদালতে পেশ করতে বলা হয়েছে তাঁকে। অন্যথায় তাঁকে তিন মাসের হাজতবাস করতে হতে পারে। এমনকী আইনজীবী হিসেবে কাজ করা তিন বছরের জন্য বন্ধও হয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। এই রায় শোনার পর প্রশান্ত ভূষণ জানিয়েছেন, সবার মত নিয়েই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। উল্লেখ্য, প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদে এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে টুইট করেছিলেন প্রশান্ত ভূষণ। সম্প্রতি প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদে নাগপুরে একটি বাইকে চড়ার ছবি সোশ্যাল মিডিয়া ভাইরাল হয়। এই ছবি নিয়ে কটাক্ষ করেন প্রশান্ত ভূষণ। পাশাপাশি, করোনা আবহে আদালতের কাজ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।এদিকে, একসপ্তাহ আগে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে গিয়েছিলেন প্রশান্ত ভূষণ। আদালত অবমাননার অপরাধে কোর্টের প্রতি করা মন্তব্য ফেরাবেন না তিনি। সোমবার এমন দাবি করেছেন এই আইনজীবী-সমাজকর্মী। তাঁর মন্তব্য, “আদালতের প্রতি করা মন্তব্য ফেরালে নিজের বিবেচনার সঙ্গে অবমাননা করা হবে।” এদিকে, বৃহস্পতিবার শেষ শুনানিতে বিচারপতি অরুণ মিশ্রের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ খানিকটা ধমকের সুরে প্রশান্ত ভূষণকে বলেছিলেন, “এজলাসে অন্তত আইনি মাথাটা ব্যবহার করবেন না। আমরা গত ২৪ বছর ধরে বিচারকের পথে। কিন্তু এভাবে কাউকে অবমাননার জন্য কাঠগড়ায় তুলিনি।” এই শুনানির পর প্রশান্ত ভূষণকে মন্তব্য ফেরাতে তিনদিন সময় দিয়েছিল আদালত।এই শুনানির পর প্রশান্ত ভূষণকে মন্তব্য ফেরাতে তিনদিন সময় দিয়েছিল আদালত। সেই সময়সীমার মধ্যেই এদিন প্রশান্ত ভূষণ বলেছেন, “আমি ধরতে পারি এটা মাই লর্ডের ইচ্ছা। কিন্তু তাতেও খুব একটা বদল হবে না। আমি মাই লর্ডের সময় নষ্ট করতে চাই না। আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবো।”
নিজের করা মন্তব্য প্রসঙ্গে প্রশান্ত ভূষণ বলেন, “গণতন্ত্রের সুরক্ষা মর্যাদা রক্ষায় এই মন্তব্য আমার সর্বসমক্ষে সমালোচনা ছিল। ন্যায়ের রক্ষক হিসেবে এই কাজ করেছি।” যদিও আদালত ভূষণের এই মন্তব্যকে সমালোচনা করা হয়েছে। বিচারপতি অরুণ মিশ্র বলেছেন, “তুমি একটা ভালো কাজ করলেও, সমাজ তোমাকে দশটা খারাপ কাজ করার লাইসেন্স দেয় না।”রবিবার নয়াদিল্লিতে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের প্রাক্তন স্ট্যান্ডিং কাউন্সেল বর্ষীয়ান আইনজীবী অভিজিৎ সেনগুপ্ত বলেন, ‘এই আইন অনুযায়ী আমরা প্রাক্তন বিচারপতি সিএস কারনানের কারাবাসের সাজা দেখেছি৷ এর আগে আদালত অবমাননার অভিযোগে দোষী প্রমাণিত হওয়ার পরে বর্ষীয়ান আইনজীবী আর কে আনন্দ-র ‘সিনিয়র’ পদমর্যাদা কেড়ে নিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট৷ আবার উত্তরপ্রদেশ বার অ্যাসোসিয়েশন এক শীর্ষ কর্তা আইনজীবীর বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করতে গিয়ে ৬ মাসের জন্য তাঁর ‘প্র্যাকটিস’ নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল শীর্ষ আদালত৷ তিনি নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেও রেহাই পাননি৷ এ ক্ষেত্রেও মনে রাখতে হবে, এ বার আদালত অবমাননার মামলার শুনানিতে প্রশান্ত ভূষণ ক্ষমা চাননি, নিজের অবস্থানেই অনড় থেকেছেন৷’ এই বিষয়ে একটি বিষয় লক্ষণীয়। যদি আজ ভূষণের সাজাও ঘোষণা করা হয়, তা হলেও তা সঙ্গে সঙ্গে কার্যকরী হবে না। কারণ তাঁর একটি রিভিউ পিটিশন পড়ে আছে, যার শুনানি অন্য বেঞ্চ করবে। যেহেতু ২ তারিখ বিচারপতি অরুণ মিশ্র অবসর নেবেন, তাই অন্য বেঞ্চে রিভিউ পিটিশনের শুনানি হবে। রিভিউ পিটিশনের ফয়সালা না-হওয়া পর্যন্ত সাজা কার্যকর হবে না।এদিন বিচারপতি অরুণ মিশ্রর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ভূষণের সাজা ঘোষণা করল।
গত ২৫ অগাস্ট শুনানিতে ভূষণের আইনজীবী রাজীব ধবন সর্বোচ্চ আদালতকে ‘বিচারবিভাগীয় বিচক্ষণতা’ প্রদর্শনের আর্জি জানিয়েছিলেন। তিনি অনুরোধ করেছিলেন যে, ট্যুইটের জন্য সাজা দিয়ে ভূষণকে ‘শহিদ’ না করার আর্জি জানিয়েছিলেন। ট্যুইটের জন্য ভূষণের ক্ষমা চাইতে অস্বীকারের উল্লেখ করে আদালত বলেছিল, ক্ষমা চাইতে অসুবিধা কোথায়। শুনানিতে ট্যুইটের জন্য খেদ না প্রকাশ করার বিষয়টি ভেবেচিন্তে দেখতে আদালত ভূষণকে আধঘন্টা সময় দিয়েছিল।  অ্যাটর্নি জেনারেল কেসি বেণুগোপাল তাঁর বক্তব্যে ভূষণকে কোনও সাজা না দিয়েই বিষয়টির নিষ্পত্তি করার আর্জি জানিয়েছিলেন। আদালত অবমাননাকারীকে ছয় মাসের কারাদণ্ড বা দুই হাজার টাকার জরিমানা বা দুই ধরনের সাজাই দেওযা যেতে পারে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.