রোহিঙ্গাদের নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়া উচিতঃ শেখ হাসিনা

0 22

প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তুরস্কের সমর্থনের জন্য তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে একথা বলেন। এ ব্যাপারে তুরস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

গতকাল তিনি ভিডিও কনফারেন্সের যুক্ত হয় তুরস্কের আঙ্কারায় নবনির্বাচিত বাংলাদেশ দূতাবাস ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তুরস্ক বাংলাদেশ দূতাবাস পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাক্তার এ কে আব্দুল মোমেন ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুভ চাভুসগলু। পরে তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের    রাষ্ট্রদূত আল্লামা সিদ্দিকী দূতাবাস ও দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী কমপ্লেক্সে নির্মিত বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগানকে সপরিবার বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আশা করি শিগগিরই তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে আসবেন।”  প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন “পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাস বিশ্বাস এবং ঐতিহ্যের গভীর ভিত্তি রয়েছে ।”  বাংলাদেশ দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সুবিধার জন্য তুরস্কের সঙ্গে তার সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আগ্রহী। তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ প্রসঙ্গে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এবং বর্তমানে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগানের আমন্ত্রণে ২০১২ সালের ১৩ এপ্রিল আঙ্কারা সফরের কথা স্মরণ করেন। ১৯৭৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের শুরু হয় তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের শিকড় অনেক গভীরে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “তবে আমাদের সম্পর্কের শুরু ত্রয়োদশ শতাব্দীতে তুর্কি জেনারেল ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজির বাংলা জয়ের মধ্যে দিয়ে। পারস্পরিক আস্থা-বিশ্বাসে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে দুই দেশের সম্পর্কের শিকড় অনেক গভীরে।

 দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “দুই দেশের জনগণের দ্বিপক্ষীয় সুবিধার জন্য বাংলাদেশ তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহী।”  প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব দেয়।” বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এ নীতিই আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি।” বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্নই দেখেননি। তিনি ক্ষুধা, দারিদ্র্য, সংঘাতমুক্ত বিশ্বের স্বপ্নও দেখেছেন। মানবকল্যাণে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করে গেছেন তিনি।” শেখ হাসিনা বলেন, “করোনা মহামারীর কারণে বিশ্ব একটি কঠিন সময় পার করছে। এটি বিশ্বব্যাপী বেশির ভাগ দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। বাংলাদেশে আমরা করোনাভাইরাসটির বিস্তার সফলভাবে রোধ করতে সক্ষম হয়েছি। একই সঙ্গে আমাদের সময়োপযোগী এবং যথাযথ ব্যবস্থা ও প্রণোদনা প্যাকেজগুলো মারাত্মক রোগের বিপর্যয়কর প্রভাব হ্রাস করেছে। আঙ্কারার বাংলাদেশ দূতাবাসের নিজস্ব ভবন নির্মাণে বরাদ্দ ছিল ৪৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। তবে ভবনটি নির্মাণে ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা কম ব্যয় হয়েছে। ওই টাকা বাংলাদেশ সরকারের কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।”

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসগলু, তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আল্লামা সিদ্দিকী। 

Leave A Reply

Your email address will not be published.