৫লাখ টাকা বিক্রি এক সাবান

0 8

এরা সদস্য সংখ্যা দলে  চার থেকে পাঁচজন।  লেখাপড়া না জানা বোকাসোকা অভিনয় টা হচ্ছে এদের মূলধন। অশিক্ষিত ও বোকাসোকা সেজেই রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। এই ভেক রেখেই কোণ একজন কে টার্গেট করে। কথায় হোক বা অভিনয় মানে কোন না কোনভাবে তাকে লোভে ফাঁদে দেয়। এরপর বিপুল পরিমান বৈদাশিক মুদ্রা ভেক ধরা লোকটার কাছে বোঝানো হয় ঐ লোককে এবং এও বুঝানো হয় এই মুদ্রা দিয়ে সে কি করবে, সে কিছু টাকার বিনিময় মুদ্রা গুলো দিবে এরকম কোন এক শর্তে আসে। ঐ ভদ্রলোককে প্রস্তাব করতে বাধ্য করে। এরপর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেওয়ার নামে তার কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয় পাঁচ লাখ টাকা। বিনিময়ে মুদ্রার বান্ডিল হিসেবে যে পুঁটলি দেওয়া হয়, সেটি খুলে তিনি পান খবরের কাগজে মোড়ানো একটি সাধারণ সাবান! পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে সাবান কেনার বিষয়টি যখন তিনি বুঝতে পারেন, ততক্ষণে প্রতারকরা ধরাছোঁয়ার বাইরে। বহুদিন ধরেই এই প্রতারণা চালিয়ে আসছে কিছু প্রতারক চক্র। তেমনই এক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ গ্রেফতার করেছে আজাদুর রহমান মাফুজ ও জাহাঙ্গীর আলম। পুলিশ তাদের কঠোর ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করাতে তারা স্বীকার করে। তাদের স্বীকারউক্তি অনুযায়ী অন্তত পাঁচ বছর ধরেই এই প্রতারণা চালিয়ে আসছে। তাদের কাছ থেকে ৫০০ রিয়াল, সাবান, কাগজ ও গামছা উদ্ধার করে পুলিশ। ডিবি ওয়েব বেজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম লিডার অতিরিক্ত উপকমিশনার আশরাফউল্লাহ বলেন, “সর্বশেষ কুমিল্লার এক ব্যক্তিসহ বেশ কয়েকজন এই চক্রের মাধ্যমে প্রতারিত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর ভিত্তিতেই অনুসন্ধানের একপর্যায়ে চক্রের দু’জনকে শনাক্ত করা হয়। রাজধানীর নীলক্ষেতের গিয়াস উদ্দিন আবাসিক এলাকা থেকে ৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তারের সময়ও তারা টার্গেট ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছিল। চক্রের পলাতক দুই সদস্যের নাম-ঠিকানাও জানা গেছে।” 

এরা কত বড় মাপের প্রতারক ভাবা যায়?  প্রতারক রা ডিবি কে  জানায় কিভাবে তাঁরা ফাদ তৈরি করে? আসুন পরিচিত হই আর এক প্রতারণার সাথে। প্রতারক জানায়, প্রথমে চক্রের একজন সহজ-সরল মানুষ সেজে টার্গেট ব্যক্তির কাছে গিয়ে দুই-তিনটি রিয়াল দেখায়। সেগুলোর দাম কত, কোথায় গেলে রিয়ালের বিনিময়ে টাকা পাওয়া যাবে কিছুই জানা নেই বলে সাহায্য চায়। আবার ভদ্রলোককে সাহায্যের বিনিময় অর্ধেক টাকা দিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। এতে টার্গেট ব্যক্তি আগ্রহের সাথে তাঁর সাহায্য করে এবং প্রতারক ৫/৬টা রিয়াল ভাঙ্গিয়ে যা আসে তাঁর অর্ধেক টা টার্গেট ব্যক্তিকে দিয়ে দেয়। এতে টার্গেট ব্যক্তির আস্থা পুরোপুরি বাড়িয়ে দেয়। প্রতারক টার্গেট ব্যক্তিকে জানায় এরকম রিয়াল তাঁর কাছে প্রচুর রয়েছে। এভাবে ভাঙ্গাতে তাঁর কষ্ট হয়ে যায় সে এত কিছু বুঝে না এবং সে অল্প টাকা বিনিময়ে সে রিয়াল গুলি দিয়ে দিবে। পরবর্তী ধাপে প্রতারক চক্রের বাকি সদস্যরাও যুক্ত হয়। প্রতারকরা জানায় , মানি এক্সচেঞ্জ এর মত ঝামেলা তাদের কাছে মারাত্মক ঝামেলা। এমন ঝামেলা তাদের পক্ষে অসম্ভব। মানে এরা সব বুজবে কিন্তু কিভাবে মানি এক্সচেঞ্জ করে হাজার বার বুঝালেও বুঝবে না। মানি এক্সচেঞ্জ এদের কাছে আকাশ কুসুম ব্যাপার হয় দাঁড়ায়। অল্প কিছু টাকা পেলেই তারা রিয়াল গুলি দিয়ে দিবে। অর্ধেক থেকে কমাতে কমাতে চার ভাগের এক ভাগ থেকেও কমে নেমে আসে। অর্থাৎ, একটি রিয়াল ভাঙ্গালে বিশ টাকার বেশি পাওয়া যায় কিন্তু তারা পাঁচ টাকা দরে হলেও দিয়ে দিবে এমন প্রতিশ্রুতিতে আসে। শেষ ধাপের ঘটনায় আসা যাক। 

এ ধাপে আসে রিয়াল এবং টাকা হস্তান্তর পর্ব। এরা রিয়াল হস্তান্তরের আগেই তারা টার্গেট ব্যক্তির কাছ থেকে পাঁচ-ছয় লাখ টাকা প্রতারক রা হাতে নেয়। শেষ মুহূর্তে অবৈধভাবে ভাবে পাওয়া রিয়াল গোপনে হাতবদল করে এবং তা খুব তড়িঘড়ি করে একটা গামছায় মোড়ানো পুটলিতে। নিরাপদ কোন স্থানে গিয়ে খুলতে হবে এরকমটা চিন্তা করে ঐ টার্গেট ব্যক্তি। পরে সে সত্যিই কোন নিরাপদ স্থানে গিয়ে ঐ পুটলি খুলে। এবং যা দেখে এর জন্য সে প্রস্তুত ছিলো না। গামছায় মোড়ানো খুলতেই দেখে খবরের কাগজ মোড়ানো একটি সাধারন সাবান। এবং উপর নিচে দুটি রিয়াল লাগানো। এর মধ্যে প্রতারকরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে চলে যায়।

ডিবি সূত্র অনুযায়ী জানা যায়, গ্রেফতার কৃত দুই ব্যক্তি যথাক্রমে, আজাদুর রাহমান ও জাহাঙ্গীর আলমের বাড়ি গোপালগঞ্জের খুনশি এলাকায়। এদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে। প্রতারক চক্রের পলাতক সদস্য সুজন ও একরামের বাড়িও গোপালগঞ্জে। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।  

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.