দুর্গাপূজায় শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন ইলিশ দিয়ে, বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি ভারত

0 15

“মাছে ভাতে বাঙ্গালী” এপ্রবাদের সাথে পরিচিত নাই এমন লোক পাওয়া মুশকিল। ইলিশ আসলে এমন একটা বিষয় যা এখন বলতে গেলে ধরা ছোয়ার বাইরে। মানুষ এখন ভুলে গেছে ইলিশের মৌসুম কবে? অথচ ইলিশকে মাছের রাজা বলা হয়। আবার ইলিশের দেশ হিসেবে বাইরে পরিচিত বাংলাদেশ। নব্বই দশকের কথা যখন ইলিশের মৌসুম আসতো তখন ভাবতাম বাসায় যেনো ইলিশ মাছ না আনে। একথা শুধু আমার না নব্বই দশকের সবার কাছেই এমন মনে হত। তখন ইলিশের মৌসুম আসলে বোঝা যেত। কাউকে মুখ ফুটে বলতে হতো না চারিদিকের পরিবেশেই বলে দিত। 

ইলিশ বাজারে চলতো হরদম কেনবেচা। প্রত্যেক বাসায় বাসায় ইলিশের ঘ্রানে মনে টানে একটা বিষয়। চলতো ইলিশ উৎসব। কিন্তু কোথায় হারিয়ে গেল সেই দিনগুলি? সময় পরিবর্তন এর সাথে সাথে আজ যেনো ইলিশ আমাদের কাছে আকাশ ছোঁয়া।এদিকে “দেশের রাজা পুলিশ এবং মাছের রাজা পুলিশ” প্রবাদটির সাথেও সবার পরিচিত। ইলিশ মাছ দেখতেও যত সুন্দর খেতে তাঁর চেয়েও মজা। 

অবশেষে আবারও ইলিশ যাচ্ছে ভারতে। সম্রাজ্যবাদী ভারত গরু নিয়ে নাটক করছে আমাদের সাথে। তাছাড়া পিঁয়াজ ইস্যুতে নাস্তানাবুদ করলেও ভারতে এবারও শারদীয় দুর্গাপূজায় শুভেচ্ছা হিসাবে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ রপ্তানি হবে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত অনেকটা এগিয়ে গেছে সরকার। তবে কী পরিমাণ ইলিশ রপ্তানি করা হবে তা আজ রোববার চূড়ান্ত করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। । 

অথচ ২০১২ সালে ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। তবে গত বছর শারদীয় দুর্গাপূজায় শুভেচ্ছা হিসেবে ৫০০ টন ইলিশ ভারতে রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ চায় না ভারতে ইলিশ রফতানি করা হোক। তাছাড়া কয়েক বছর আগে দেশের বুদ্ধিজীবীরা পরামর্শ দিয়েছিল তিস্তা চুক্তি না করা পর্যন্ত ভারতকে ইলিশ দেয়া যাবে না। দেশে ‘আগে তিস্তা চুক্তি পরে ইলিশ’ এটা এক সময় জনপ্রিয় শ্লোগান উঠেছিল।

২০১২ সালের পর আজ প্রথম ভারতে যাবে পদ্মার ইলিশ। এ খুশিতে আত্মহারা ভারতের ইলিশ ভোজন রসিকরা। পদ্মার ইলিশ যাবে ভারতে এসংবাদে ভারতের পেট্রাপোলে ভীড় জমাই পেট্রাপোলের আশপাশের লোকজন। ঘরের মেয়েরাও পিছিয়ে ছিল না।

ঢাকার ত্র্যাকোয়াট্রিক রির্সোস লিমিটেড শারদীয় পূজা উপলক্ষে ৫শ মেঃ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি পেয়ে আজ প্রথম চালানটি দুপুর ২ টায় ৮টি ট্রাকের মাধ্যমে (ত্রিশ হাজার পাঁচশত ষাট কেজি) মাছ ভারতে রপ্তানি করে।

বানিজ্য মন্ত্রালয়ের নির্ধারিত প্রতি কেজি ৬ মার্কিন হিসেবে রপ্তানিকৃত মাছের মুল্য দাড়ায় ১ লাখ ৮৩ হাজার ৩শ ৬০ মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশী টাকায় ১ কোটি ৫৫ লাখ ৮৫ হাজার ৬শ টাকা। মাছ গুলো নির্বিঘ রপ্তানির সময় কাস্টম এবং বন্দরের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইলিশ রফতানি করতে হলে সরকারের অনুমতি নিতে হয়। দেশে ইলিশের উৎপাদন ও চাহিদার কথা বিবেচনা করে ২০১২ সালের ১ আগস্ট থেকে ইলিশ রফতানি বন্ধ করে দেয় সরকার। তবে গত বছর শারদীয় দুর্গাপূজায় শুভেচ্ছা হিসেবে ৫০০ টন ইলিশ ভারতে রফতানির অনুমতি দেয়া হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় সীমিত আকারে ইলিশ রফতানির অনুমতি দেয়া হবে এবার। তবে এবার ৫০০ টনের বেশি ইলিশ রফতানির অনুমোদন দেয়া হতে পারে। কোন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কী পরিমাণ রফতানি করা হবে তা আজ ঠিক করা হবে। ২০১২ সালের পহেলা আগস্ট ইলিশসহ সব ধরনের মাছ রফতানি নিষিদ্ধ করে সরকার। পরে ওই বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর ইলিশ ছাড়া অন্য সব মাছ রফতানিতে অনুমতি দেয়া হয়। ফলে ভারতে বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের কোলকাতায় ইলিশের জন্য হাহাকার পড়ে যায়। এদিকে ইলিশ রফতানি বন্ধ থাকলেও পাচার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নানাভাবে ইলিশ ভারতে পাচার হচ্ছে। পাচার বন্ধে ইলিশ রফতানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার কথাও কয়েকবার জানায় সরকার।

এদিকে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে এবার বাংলাদেশ পুঁজা উপলক্ষ্যে ভারতকে গতবছরের চেয়ে তিনগুন বেশি ইলিশ দেবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ইলিশ রফতানি-সংক্রান্ত অনুমতিপত্র সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর হাতে পৌঁছেছে। দিল্লি থেকে ‘স্যানিটারি ইমপোর্ট পারমিট’ আদায় করে মাছ দ্রুত আমদানির তোড়জোড় চলছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, পূজা উপহার হিসেবে ১০ অক্টোবরের মধ্যে ১৪৫০ মেট্রিক টন ইলিশ পাঠানো যাবে। আগের বছর ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ পাঠানোর ছাড়পত্র মিলেছিল। এবার মোট ৯টি সংস্থাকে কম করে ১৫০ মেট্রিক টন করে ইলিশ রফতানির অনুমতি দিয়েছে ঢাকা।

 

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.