মেসি বার্সার যুদ্ধে কে হলেন জয়ী?

0 30

সপ্তাহ শেষে রবিবার বিশ্রামে ছিলেন বার্সেলোনা ফুটবল টীম। সোমবার থেকে আবার অনুশীলন শুরু করে দিয়েছে খেলোয়াড়’রা। মেসি মুখ খোলার কারনে মেসির আগমন ক্লাবে। তিনি রীতিমত অনুশীলনের মন দিয়েছেন। মেসি এত আলোচনার পরে পরিস্থিতি তাকে এক চ্যালেঞ্জের মুখে পৌছে দিয়েছে।  কোচ রোনাল্ড কোম্যানের সঙ্গে নতুন কোন পরিকল্পনা মানেই নতুন চ্যালেঞ্জ। বার্সা ছাড়ার সিদ্ধান্তে কিছু প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিল ফুটবল জগতে। অনেকই অনেক ধরনের মন্তব্য করেছেন। কেউ বা আবার বলেছেন, ক্লাবের জন্য ভালো হয়েছে, কেউ বলেছে মেসি র জন্য ভালো হয়েছে এবং সবশেষে বার্সায় দেখেই অনেকেই সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন। লুইস এনরিকে যিনি বার্সার সাবেক কোচ এবং বর্তমান স্পেন জাতীয় দলের কোচ বিষয়টি অন্যভাবে দেখেন। লুইস এনরিকে এভাবে মন্তব্য করেন, “আমার মতে ক্লাবের চেয়ে ব্যক্তি বড় হতে পারে না। বার্সেলোনা বিশ্বের অন্যতম বড় ক্লাব এবং অনেক শিরোপা জিতেছে। এটা ঠিক তারা মেসির সঙ্গে খুবই সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। লিও’ই বার্সাকে নিজের অসাধারণ পারফরম দিয়ে আজকের অবস্থায় নিয়ে এসেছে। তবে এখন তাদের মধ্যে যদি নতুন চুক্তি হতো তবে পরিস্থিতি আরও ভালো হতো। কারণ আজ না হোক খুব দ্রুত মেসির সঙ্গে বার্সার সম্পর্ক শেষ হবেই। এটা যদি বন্ধুত্বপূর্ণ ভাবে হয় তবে ভালো নয়তো বাজে ভাবে হলে তা দেখতে কারোরই ভালো লাগবে না। তবে একটা কথা ঠিক বার্সা মেসিকে ছাড়াও শিরোপা জিতবে।”

মেসি তার মুখে শেষটা সুন্দর করে মানুষের কাছে তুলে ধরেছেন। একটা বিষয় পরিস্কার মেসির স্বপ্ন বার্সাকে নিয়ে এমন স্বপ্ন অন্য কেউ দেখার কথাও ভাবিনি যা লিও ভেবে রেখেছে। তবে লিও র জন্য এটা বড় একটা চ্যালেঞ্জ ও বলা যায়। কারন এখন লিও যদি খেলা খারাপও হয় তবে কোচ সহ অনেকেই অনেক ধরনের মন্তব্য করে বসবে। তাইতো লিও কে খেলতে হবে তার সেরাটা দিয়ে। তবে লিও র মতে তার স্বপ্নে বাস্তবে সেই ক্লাব কে নিয়েই ভেবে চলেছে। কিন্তু কিছু কারনে হয়তো সে তার এই কঠোর সিদ্ধান্তে পৌছে গেছিল। 

তবে এদিকে লিওনেল মেসি বনাম বার্সেলোনা যুদ্ধে কিন্তু বার্সাই জয়ী।

লিও বার্সায় থেকে যাচ্ছে এটা সত্যিই বার্সার জন্য অনেক ভালো।লিওনেল মেসি য়েছে।”আমি যখন পরিবারে শেয়ার করি বার্সা ছাড়ার কথা বাচ্চা বউ সবাই কান্না শুরু করে দিয়েছে। আমার চোখে বার্সা যেনো কোন ক্লাব নয় এটা আমার আরেকটা পরিবার। কোর্ট অবদি বার্সাকে চিন্তাও করে নাই। আমার শৈশবকাল এখানেই এবং  আমার বেড়ে ওঠা এই শহরেই। এমনকি আমি বিয়েটাও এই শহরে করেছি। এই করোনা কালীন সময়ে বাচ্চারা স্কুল পরিবর্তন করতে চাননি। তাও আমাকে বাস্তবতার মুখে দাঁড়িয়ে কঠোর হতে হয়েছে। তবে আমি বলতে পারি আমার পারফর্মের কোন পরিবর্তন হবে না। আমিও আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি আগামীতেও আমার সেরাটা দিব।

 আমার কেরিয়ার এখানেই শুরু এবং এখানেই শেষ করতে চাই।” সব আলোচনা সমালোচনা পিছনে ফেলে মেসি আবার বার্সাতে। এতে মেসির মান হানি হয় নাই । কারন সে তার গড়ে ওঠাকে গুরুত্ব দিয়েছে। সাধারন থেকে আজকে সে মেসি ক্লাবের কারনে এদিকে মেসিও ক্লাব কে তার সেরাটা দিয়ে আসছে। 

লুইস এনরিকে আরও বলেন, “এদিকে মেসি থেকে যাওয়ায় ক্লাবের লাভ দেখছেন তার সাবেক সতীর্থ ও বর্তমান বায়ার্ন মিউনিখ মিডফিল্ডার থিয়াগো আলকানতারা, ‘এ ধরনের সিদ্ধান্তে ক্লাবের জন্য অনেক লাভ হবে কারণ সে দুর্দান্ত একজন খেলোয়াড়। লিও যে কোনো দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এটা যদি বার্সেলোনা হয়, অবশ্যই ক্লাবটির জন্য ভালো।’ মেসির থেকে যাওয়ায় দারুণ খুশি তার সতীর্থ ফ্রাঙ্কি ডি ইয়ং, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি খুবই খুশি যে সে থেকে যাচ্ছে। সে পৃথিবীর সেরা খেলোয়াড় এবং সে যদি বার্সেলোনায় থেকে যায় সেটা আপনাকে খুশি করবেই।’ বার্সেলোনার সাবেক সভাপতি জর্দি মেস্ত্রের ধারণা ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনা নয়, বার্তোমেউর ওপর অসন্তুষ্ট লিওনেল মেসি। কাতালুনিয়া রেডিওকে তিনি বলেছেন, ‘মেসি বার্সেলোনার ওপর ক্ষিপ্ত নয়, তবে অবশ্যই প্রেসিডেন্টের ওপর। এটা একটা বিচ্ছেদ।” 

সব বাধা পেরিয়ে লিওনেল মেসি অনুশীলন এ যোগ দেন। সোমবার অনুশীলনের প্রায় দেড়ঘন্টা আগে মাঠে হাজির লিওনেল মেসি এবং লিওনেল মেসি সস্থভাবে অনুশীলনে যোগদান করেন। 

Leave A Reply

Your email address will not be published.