আসুন ই-কমার্স ব্যবসায়ী’তে নিজেকে প্রস্তুত করি ও উদ্যোক্তা’র বৈশিষ্ঠগুলো জেনে নেই

0 20

যখন আপনি কোন কোন ব্যবসা শুরু করার কথা চিন্তা করবেন তখন আপনাকে অবশ্যই কিছু বিশোয়ে মাইন্ড সেট আপ করে নিতে হবে। যদি আপনি অর্থনীতি নিয়ে পড়াশুনা করে থাকেন তবে ইতিমধ্যে একজন সফল উদ্যোক্তার কি কি গুণাবলী থাকা প্রয়োজন তা সম্পর্কে ধারণা আছে, বা আপনি যদি যে কোন ব্যবসা পূর্বে করে থাকেন তাহলেও কমবেশী এ বিষয়ে আপনার জানা আছে। তারপরেও আমরা নিজেদের একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য নিচের গুনাবলী সম্পর্কে জেনে নিই এবং আরেকবার এভাবে নিজেকে প্রস্তুত করার চেষ্টা করি। 

  • লক্ষ্য স্থির করা: জীবনের সবচেয়ে কঠিন কাজ হচ্ছে লক্ষ্য স্থির করা। আপনি যখন কোনো কাজ মন প্রাণ দিয়ে করতে চাইবেন দেখবেন নানা ভাবে নানা সমস্যার সম্মুখীন হবেন। আপনার হয়ে যাওয়া কাজটাও শেষ মূহূর্তে আর করা হয়ে উঠছে না। এই পর্যায়ে বেশিরভাগ নতুন উদ্যোক্তাদের মনে এটাই আসে যে আমাকে দিয়ে আর হবে না। আমি এই কাজটি শেষ করতে পারবো না। এটি আপনার মনোবল ভেঙ্গে দেয় যাতে করে আপনি আর আপনার লক্ষ্য পর্যন্ত পৌঁছাতে না পারেন । তাই সবার আগে আপনার লক্ষ্য স্থির করুন।
  • পরিশ্রম করার মানসিকতা: জীবনে যারা সফল হয়েছেন তারা পরিশ্রমের কথাই বলেছেন। পরিশ্রমের কারনেই সমসাময়িক সুযোগ গুলো দ্রুত কাজে লাগাতে পারবেন। ই-কমার্স সম্পর্কে একটা ধারণা হলো এই ব্যবসা ঘরে বসে করা যায় কথা সত্য। কিন্তু ব্যবসা রিলেডেট অনেক বিষয় রয়েছে যা সব ঘরে বসে করা যায় না। তাই পরিশ্রম করার মন মানসিকতা থাকতে হবে। 
  • ব্যবহার: ব্যবহার হচ্ছে একজন সফল উদ্যোক্তার অন্যতম প্রধান গুন। আপনাকে অবশ্যই একজন ভোক্তাকে সর্বোত্তম সেবা প্রদানে সচেতন থাকতে হবে। গুণগত মানের দিক থেকে আপনাকে সেরা পন্যটি সরবরাহ করতে হবে। যাতে পন্যের উপর ভিত্তি করে ভোক্তা বুজতে পারে আপনি একজন সৎ ও আদর্শবান ব্যবসায়ী।
  • সচেতন: যে কোন ব্যবসা শুরু করার পূর্বে আপনাকে একজন সচেতন নাগরিক হতে হবে। এক্ষেত্রে ই-কমার্স ব্যতিক্রম নয়, আপনাকে আপনার এবং ভোক্তার আশপাশের অবস্থা, দেশ জাতি ও সমাজ সম্পর্কে সর্বদা সচেতন থাকতে হবে। দেশের আর্থ সামাজিক চিত্রটা আপনার কাছে পরিষ্কার থাকতে হবে।
  • নিয়ম নীতির চর্চা: নিয়মনীতির প্রতি আপনাকে সর্বদা শ্রদ্ধাশীল হতে হবে, প্রত্যেকটি নিয়ম পালন ও চর্চা ই-কমার্স ব্যবসার জন্য ভীষণ জরুরী। একজন ই-কমার্স উদ্যোক্তা আইটি জগতের যে সকল নিয়ম-কানুন রয়েছে তা পরিপূর্ণ ভাবে মেনে চলতে পারলে এবং সেভাবে নিজের ব্যবসাকে সাজালে আপনার একজন সফল ই-কমার্স ব্যবসায়ী হওয়ার পথ আরো সুগম হয়ে যাবে। 
  • সময়ানুবর্তিতা: একজন ভোক্তাকে গুণগত মানের পন্য সরবরাহের পাশাপাশি সঠিক সময়ে পন্য প্রদানের নিশ্চয়তা দিতে হবে।  অর্থাৎ ভোক্তা যেনো তার অর্ডারকৃত পন্যটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পেয়ে যান সেদিকে আপনার অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।
  • আত্মবিশ্বাস: প্রত্যেক মানুষের কিছু গুণ থাকে। সফল উদ্যোক্তার প্রধান গুণ হচ্ছে আত্মবিশ্বাস। একজন সফল উদ্যোক্তা হতে হলে আপনাকে অবশ্যই আত্মবিশ্বাসী হতে হবে, যার আত্মবিশ্বাস যত বেশি তার সাফল্য তত বেশি। সফল উদ্যোক্তা তার আশেপাশের আত্মবিশ্বাসী লোকদের মধ্যে অন্যতম।
  • ধৈর্যশীলতা: কঠোর ধৈর্যশীলতার মাধ্যমে ব্যবসার পথকে অধিকতর মসৃণ করতে হবে। ব্যবসা সফলতার পাশাপাশি ব্যর্থতা নামক শব্দটি থাকবেই সবসময় আপনাকে সেভাবে প্রস্তুত থেকে পথ চলতে হবে। ব্যর্থতা নামক শব্দটিতে ধৈর্যশীলতার মাধ্যমে মোকাবেলা করতে হবে।
  • বিজ্ঞাপন: আপনি আপনার কাজকে যত সুন্দর করে মানুষের মাঝে তুলে ধরবেন তার কদর ততো বাড়বে। আর সেই ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন ব্যবস্থা হতে পারে আপনার প্রথম ধাপ। সেজন্য  আপনাকে বিজ্ঞাপনের বিষয়ে কিছু সৃজনশীলতা এবং কিছু চঞ্চলতার সাথে কাজ করতে হবে। মনে রাখবেন আপনি একা নন আপনার অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছে যারা প্রতিনিয়ত আপনাকে টপকে উপরে উঠার চেষ্টা করছে বা করবে।
  • সুযোগ সন্ধান করা: আপনাকে প্রতিনিয়ত ব্যবসা সংক্রান্ত নতুন নতুন সুযোগ এবং সুবিধাগুলোকে অনুসন্ধানের মাধ্যমে খুজে বের করতে হবে এবং এগুলো আপনার ব্যবসায় যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োগ করতে হবে।
  • তথ্য অনুসন্ধান: তথ্য সংগ্রহ করুন, ব্যক্তিগত ভাবে গ্রাহক, সরবরাহকারী ও প্রতিযোগিদের সম্পর্কে তথ্য অনুসন্ধান করুন। আপনি যত বেশি আপনার প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রতি সচেতন থাকবেন তত বেশি নিজের কোম্পানির উন্নতি করতে পারবেন। তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় নেটওয়ার্ক তৈরি করুন ও তথ্যগুলোকে কাজে লাগান।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.