ই-কমার্স ব্যবসা কি? কেন করবেন, কিভাবে করবেন এবং সুবিধা-অসুবিধা?

0 17

আসুন জেনে নেই ই-কমার্স ব্যবসা কি?

 পন্য ক্রয়-বিক্রয়ের অনেক গুলো উপায় সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।

এর মাঝে কিছু জনপ্রিয় উপায় হচ্ছে,আপনি কোন এক ক্রেতার বাসায় গিয়ে পন্য সম্পর্কে তাকে একটি ধারণা প্রদান করলেন যদি সে আপনার পন্য এবং আপনার ব্যবহার দেখে আকৃষ্ট হয় তাহলে সে পন্যটি ক্রয় করবেন।

 ই- কমার্স কি?

ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যবসায়িক লেনদেন ও সুবিধা ব্যবহার করাকে ই-কমার্স বলে। এটি ইন্টারনেট কমার্সকে সংক্ষেপে ই-কমার্স বলা হয়। অনলাইনে পণ্য বেচাকেনা এর সহজ উদাহরণ। বস্তুত, যে কোনো ব্যবসায় ইলেক্ট্রনিক্সের মাধ্যমে পরিচালনা করাই হল ই-কমার্স।

হতে পারে আপনি একটি দোকান ভাড়া নিয়ে আপনার পন্যগুলো সাজিয়ে রাখলেন সেখানে বিভিন্ন ক্রেতা এসে তাদের পছন্দের পন্যগুলো অর্থের বিনিময়ে ক্রয় করে থাকবে।

আবার হয়তো আপনি আপনার বাসায় পন্য গুলো এনে রাখলেন আপনার নির্দিষ্ট ক্রেতাগন আপনার কাছে এসে পন্যগুলো সংগ্রহ করে নিয়ে গেলো। 

 শুরুতে এটা বেশ আনন্দদায়ক মুহূর্ত ছিলো যখন ভাবতাম কোন কিছু ক্রয় করতে বাহিরে যেতে হবে, একটা নতুন জায়গা, একটা নতুন মুহূর্ত, একজন নতুন মানুষের সাথে পরিচয় এটা সত্যি আনন্দদায়ক মুহূর্ত ছিলো। কিন্তু সময়ের পরিবর্তন সকলের জীবনযাত্রার মানে সাথে সাথে সেই আনন্দটা একটা বাড়তি বোঝা মনে হচ্ছিলো, অফিসের কাজের চাপ, রাস্তায় যানজট, দূষণ যুক্ত শহর এর মাঝে আর সেই আনন্দটা উপলব্ধি করা সম্ভব হচ্ছিলো না। ঠিক তখন কম্পিউটারের মাধ্যমে কেনা কাটার সুযোগ নিয়ে আসে টেলিশপিং, বুকস্টাক্স আনলিমিটেড, এবং অ্যামাজন এর মত বিশ্বখ্যাত কোম্পানিগুলো। তারা তখন শিখিয়েছিল ঘরে বসে কিভাবে পন্য ক্রয় করা যায়। তখন হয়তো কিছুটা সময় এবং সৌখিনতার বশবর্তী হয়ে সবাই কেনাকাটা করতো কিন্তু এখন এটা এতটাই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে যে অ্যামাজন,আলিবাবা, ওয়ালমার্ট, ইভালি সহ আরো অনেক বিশ্বখ্যাত কোম্পানি গুলো গ্রাহকের চাহিদা মেটাতে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে।

 বর্তমানে ই-কমার্স সারা বিশ্বের মানুষের নিকট একটি অতি পরিচিত নাম। আর ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান গুলো এখন শুধু মাত্র পন্য ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তারা এর পাশাপাশি অন্যান্য সুযোগ সুবিধা প্রদান করে থাকে। যেমন-পন্য ক্রেতার নিকট পৌছানো,পন্যের মূল্য পরিশোধ বা আদায়, পন্য সম্পর্কে সতর্কীকরণ এবং নতুন পন্যের আগমন ইত্যাদি সবকিছুই ই-কমার্স সেবার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। 

 একজন ক্রেতা ইন্টারনেট ব্যবহার করার মাধ্যম ঘরে বসেই পন্যের গুণগত মান যাচাই এবং পন্যের মূল্য সম্পর্কে জানতে পারে। এখানে পন্য কেনার জন্য বাইরে যেতে হয় না এমনকি কোন দোকানেও যেতে হয় না। ঘরে বসেই ক্রেডিট কার্ড বা অনলাইন ভিত্তিক ট্রানজেকশনের মাধ্যমে পন্য অর্ডার করে পন্য হাতে পেয়ে থাকেন।

 ই-কমার্স ব্যবসা কেন শুরু করবেন?

হয়তো আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে অনলাইন জগতে এতো এতো কাজ এর মাঝে সব থেকে লাভ জনক কাজ কোনটি? এক্ষেত্রে আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন যে সব থেকে লাভজনক এবং সম্মান জনক ব্যবসা হচ্ছে ই-কমার্স। । আপনি যদি একটি ছোট ই-কমার্স ওয়েবসাইট সঠিক নিয়মে এবং সঠিক লোক দ্বারা পরিচালনা করেন তবে আপনি আপনার এই ছোট্ট সাইট থেকে প্রতি মাসে নূন্যতম ১ লক্ষ ডলার বা তার অধিক প্রফিট করতে পারবেন।

 (আমাদের পরিচালিত কয়েকটি ই-কমার্স সাইটের মাসিক আয়ের প্রমান নিচে প্রদান করলাম।) একজন সফল ই-কমার্স ব্যবসায়ী যদি সঠিক ভাবে তার ই-কমার্স ওয়েব সাইটকে পরিচালনা করতে পারে তবে সর্বোচ্চ ১ বিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব। যা একজন চাকরিজীবী বা অন্যান্য পেশার লোকদের জন্য প্রায় অসম্ভব।

 চাকরিজীবী বা অন্য যে কোন পেশার একজন লোক প্রতি মাসে ৫০০০ থেকে ২০,০০০ ডলারের বেশি আয় করা অনেকটা কঠিন চ্যালেঞ্জ বলা চলে। যেখানে একজন সফল ই-কমার্স ব্যবসায়ী প্রতি মাসে ১ বিলিয়ন বা তারও বেশী আয় করছে এমন উদ্যোক্তার সংখ্যা কোটি বা তারো অনেক বেশী। একজন চাকরীজীবি বা অন্যান্য পেশাজীবীর সাথে একজন ই-কমার্স ব্যবসায়ী বেশ কিছু গুরুত্ব পূর্ণ পার্থক্য লক্ষণীয়। যেমনঃ  

অন্য পেশার তুলনায় একজন ই-কমার্স ব্যবসায়ীর আয় বেশী।

একজন উদ্যোক্তা স্বাধীন চেতা হয়ে থাকে যা অন্য পেশায় হতে পারে না।

একজন ই-কমার্স ব্যবসায়ী বা  উদ্যোক্তা কে তার কাজের জন্য কোন প্রকার জবাবদিহিতা করতে হয় না। অন্য পেশায় জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে।

একজন ই-কমার্স ব্যবসায়ী তার কাজ কর্মের মাধ্যমে সৃজনশীলতা প্রকাশ করতে পারে। যা অন্য পেশার জন্য সম্ভব নয়।

একজন ই-কমার্স উদ্যোক্তা তার ব্যবসায়ের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে পরিচিতি এবং একটি সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন। যা একজন চাকরীজীবির পক্ষে সম্ভব হয় না।

একজন উদ্যোক্তা বিভিন্ন দেশের ভোক্তাদের রুচি, অভ্যাস এবং ফ্যাশন সম্পর্কে অবগত থাকেন। কিন্তু অন্য পেশাজীবীর পক্ষে সেটা জানা সম্ভব নয়।

ই-কমার্স ব্যবসা কিভাবে শুরু করবেন?

প্রথমে আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য একটা সুন্দর নাম বাছাই করতে হবে এবং সেটার ট্রেডলাইসেন্স সহ অন্যান্য সরকারী ডকুমেন্টস তৈরী করে আপনার প্রতিষ্ঠানের নামের সাথে মিল রেখে একটি ডমেইন ক্রয় করুন।এরপর UpWork.com এ একটি একাউন্ট তৈরী করুন এর পরে সকল ডকুমেন্টস এবং পেমেন্ট অপশন ভেরিফাই করে নিন (একাউন্ট এপ্রুভ   না করলে কোন ভালো ফ্রিল্যান্সারের কাছ থেকে আপনি সহযোগিতা নিতে পারেন)।এক্ষেত্রে আপনি ভাল একজন ফ্রিল্যান্সার নিয়োগ দিতে পারেন এবং  এরনপরে আপনার সাইটে যে সকল ফিউচার রাখতে চান সেগুলো স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করে একটি প্রোপোজাল তৈরী করে পাবলিশ করুন। এরপর আপনার প্রপোজালে আবেদনকৃত ফ্রিল্যান্সারদের মধ্য থেকে একজন ভালো মানের ফ্রীল্যান্সার বাছাই করে তাকে আপনার সাইট ডিজাইন এবং ডেভোলোপিং এর দায়িত্বটি অর্পণ করুন। আশা করি ২,০০০ থেকে ৫,০০০ ডলারের মধ্যে একটি ভালো মানের ই-কমার্স সাইট তৈরী হয়ে যাবে।ওয়েবসাইট তৈরী হলে আপনাকে মার্কেট যাচাইয়ের মাধ্যমে আপনাকে সময় উপযোগী পন্য নির্ধারন করতে হবে এবং সেগুলো আপনার সাইটে পাবলিশ করতে হবে, এর জন্য আপনার সাইটের সাইজ অনুযায়ী একটি ডেডিকেটেড টিম তৈরী করতে হবে। যদি আপনি বড় কোন প্রতিষ্ঠান তৈরী করতে চান তবে আপনার একটি বড় টীম অথবা ছোট টীম যারা কিনা নিয়মিত ভাবে এই কাজটি দক্ষতার সাথে সম্পাদন করবে।

পন্য সংযোজনের কাজ হয়ে গেলে আপনাকে অর্থ আদান প্রদানের জন্য ভালো পেমেন্ট গেটওয়ের সাহায্য নিতে হবে, আমি এর জন্য আপনাকে পেপাল এবং স্ট্রিপ সাজেস্ট করবো। 

ই-কমার্স  ব্যবসায়ের কিছু সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে সেগুলো হলো-

সুবিধা সমূহঃ

  • একটি দ্রুত ক্রয়/বিক্রয় পদ্ধতি এবং সহজে পন্য খুজে পাওয়া যায়।
  • ব্যবসা পরিচালনা করার ক্ষেত্রে খরচ কম।
  • ভৌগলিক সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে সহজেই ক্রেতার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করা যায়।
  • পন্যের গুনগত মান উন্নয়ন করে।
  • কম খরচে উন্নত সেবা প্রদান করে।
  • বাহ্যিক আনুষ্ঠানিক ছাড়াই ব্যবসা করা যায়।
  • সহজেই ব্যবসা শুরু করা যায় এবং ব্যবস্থাপনা করা যায়। 

 অসুবিধা সমূহঃ

  • ই-কমার্স ব্যবসায়ের সুবিধার তুলনার অসুবিধা সীমিত তবুও কিছু অসুবিধার কথা মাথায় রাখা উচিৎ । 
  • নিচে অসুবিধা গুলো তুলে ধরা হলো- 
  • দক্ষ টিম মেম্বারের অভাব।
  • উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োগ ব্যয় বহুল।
  • মাত্রাতিরিক্ত অর্ডার সরবরাহের সমস্যা।
  • দূরবর্তী স্থানের অর্ডার ক্ষেত্র বিশেষ ব্যয়বহুল।
  • আইন প্রনয়ন ও প্রয়োগ সমস্যা।

যে কোন ব্যবসা শুরু বা পরিচালনা করতে আপনাকে বিভিন্ন রকম অর্থ ব্যয় করতে হবে। যেমনঃ দোকান বা অফিস ভাড়া, বিদ্যুৎ  বিল, কর্মচারী বেতন ও অফিসিয়াল অন্যান্য খরচ ইত্যাদি।  কিন্তু একটি ই-কমার্স ব্যবসা পরিবহন খরচ এবং কিছু আনুসাংগিক খরচ ছাড়া আর তেমন উল্লেখযোগ্য খরচ থাকে না। তাই ই-কমার্স ব্যবসা যতটুকু লাভ হয়। তার বেশির ভাগ অংশ থেকে যায়। 

অনলাইনে লাভজনক ব্যবসার মধ্যে ই-কমার্স হচ্ছে সর্বাধিক লাভজনক, যদি ই-কমার্সের ক্ষতির দিকটা বলতে হয় তবে সেটি হলো আপনাকে কয়েকটি দক্ষ টিম তৈরী করতে হবে যেমন ওয়েবসাইট ডিজাইন, ডেভেলপি্‌ সময় উপযোগী নিয়মিত ওয়েবসাইট কাস্টমাইজেশন করা, সোশ্যাল মিডিয়া পরিচালনা, এসইও, ডিজিটাল মার্কেটিং, পণ্য গুলো সাজিয়ে রাখার জন্য এবং বিজ্ঞাপনের জন্য আকর্ষণীয় ছবি ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং এবং মার্কেটিং, কাস্টমার ম্যানেজমেন্ট, পন্য ডেলিভারী, ট্যাক্স এবং পেমেন্ট প্রোসেসিং, এবং সাইটের সিকিউরিটি ম্যানেজমেন্টের এর জন্য যা কিনা আপনাকে সাজাতে প্রায় এক বছর বা তারো আরো অধিক সময় লাগতে পারে। তবে আপনার যদি পরিচিত এবং অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ কোন একটি আইটি কোম্পানী পাশে থাকে তবে এই সকল কাজের জন্য আপনাকে আর চিন্তা করতে হবে না। আপনি এই দায়িত্ব গুলো তাদের প্রদান করুন।

মনে রাখবেন আপনার ই-কমার্স সাইটের ডিজাইন, পন্যের কালেকশন, পন্যের ডিজাইন যত সুন্দর এবং সাইটের স্পীড যত ফাস্ট হবে ভিজিটর আপনার সাইট তত বেশী পছন্দ করবে। এ ছাড়া আপনার ই-কমার্স  সাইট যদি ক্রাশ বা বন্ধ হয়ে যায় তবে ভোক্তারা আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইট থেকে কিছু কিনতে পারবে না এবং আপনার পূর্ব অর্জনকৃত সকল বিশ্বাস যোগ্যতা হারাবেন। 

ই-কমার্স ব্যবসার সুফলঃ 

বর্তমান যুগে অনলাইনের মাধ্যমে কেনাকাটা করার জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্রেতারা যেহেতু ঘরে বসে খুব সহজেই পন্য হাতে পাচ্ছেন সেহেতু ক্রেতাদের স্থানীয় বাজারে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। কারন ক্রেতারা যদি এরকম সুযোগ সুবিধা পায় তবে তারা কেনো কষ্ট করে জ্যাম এবং সময়ের অপচয় করবে? তারা অনলাইন মার্কেটের প্রতি বেশি ঝুকবে এটাই স্বাভাবিক।

সুতরাং বলা যায় যে এসব কারনেই  ই-কমার্স ব্যবসার ভবিষ্যত উজ্জ্বল। ই-কমার্স ব্যবসার মূলধন তুলনা মূলক ভাবে কম লাগে। কারন এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করার জন্য কোনো প্রকার নির্দিষ্ট স্থান থাকা বাধ্যতামূলক না। ই-কমার্স ব্যবসায় কম সময়ে বেশি লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা সব থেকে বেশী। একটি ই-কমার্স ওয়েব সাইট তৈরী করতে খুব বেশি অর্থের প্রয়োজন হয় না। অল্প খরচে একটি ওয়েব সাইট তৈরী করা সম্ভব। এ কারনেই বিশ্বের অন্যান্য ব্যবসার মধ্যে ই-কমার্স একটি লাভজনক ব্যবসা

b

Leave A Reply

Your email address will not be published.