বার্সেলোনা বনাম মেসি’র যুদ্ধ

0 15

ফুটবল বিশ্বে তোলপাড় ফেলেছে বার্সেলোনা ছেড়ে দিচ্ছেন লিয়োনেল মেসি। কিশোর বয়স থেকে এ ক্লাবের অ্যাকাডেমি লা মাসিয়ায় ফুটবলার হিসেবে বেড়ে ওঠা মেসির। জীবনে যত ভালো-খারাপ সময়ই আসুক না কেনো তিনি কখনো ছেড়ে যাননি এ ক্লাব কিন্তু আজ এসে কোন বিচ্ছেদ লগ্ন উপস্থিত?মেসির বার্সা ছাড়া নিয়ে জল্পনা চলছিল বেশ কিছু দিন ধরেই ।

 মেসি ক্লাবকে জানান তাঁকে অবিলম্বে ‘ফ্রি প্লেয়ার’ হিসেবে ছেড়ে দেওয়া হোক। মেসির চুক্তিতে আগামী বছর পর্যন্ত রয়েছে। সেই চুক্তিতে এটাও রয়েছে যে, প্রত্যেক বছর জুনে মরসুম শেষে তিনি ‘ফ্রি’ ফুটবলার হিসেবে চলে যেতে পারেন।এ সময় ছাড়া  অন্য কোনও সময়ে তাঁকে নিতে হলে ক্লাবকে ৭০০ মিলিয়ন ইউরো দিতে হবে ‘বাইআউট ক্লজ’ হিসেবে। অর্থাৎ, মেসি’র ক্লাব বার্সেলোনার হাতে এই টাকাটা তুলে দিতে হবে।

কৈশোর থেকে কাটানো বার্সেলোনার সঙ্গে মেসির সম্পর্ক এখন এমনই তলানিতে পৌঁছেছে যে, আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি বার্তায় লিখেছেন, করোনাকালীন সময়টা অর্থাৎ কোভিড-১৯ মহামারীর কারনে বিষয়টা একটু ভিন্ন। অনেক দিন ধরে থেমে থাকার পরে ফুটবল মরসুম সবে শেষ হয়েছে। তাই জুন নয়, এখনই মরসুম শেষের সময় ধরতে হবে। সেই কারণে ‘ফ্রি প্লেয়ার’ হিসেবে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হোক। উল্টো মত হচ্ছে, মেসির চুক্তির এই ধারা কার্যকর করতে গেলে মেসিকে ১০ জুনের মধ্যে ক্লাব ছাড়ার কথা জানাতে হত। এতকাল মেসি আর বার্সেলোনা সমার্থক হয়ে গিয়েছিল। এখন যা পরিস্থিতি, মেসি বনাম বার্সেলোনা সংঘাত শুরু হয়ে গিয়েছে। আইনি যুদ্ধ কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্ট পর্যন্ত গড়ালেও অবাক হওয়ার নেই। 

মেসি ক্লাব ছাড়ার পিছনে দু’টো কারন খুব বেশি শোনা যাচ্ছে। প্রথমত, মেসির একদম বনিবনা হচ্ছে না বার্তোমেউয়ের সঙ্গে। দ্বিতীয়ত, রোনাল্ড কোমান ম্যানেজার হিসেবে নিযুক্ত হয়েই সতীর্থ লুইস সুয়ারেস-সহ একাধিক ফুটবলারকে ক্লাব ছাড়তে বলেছেন।

সতীর্থ লুইস সুয়ারেস ছিলো লিওনেল মেসি প্রিয়। মেসি এ নিয়ে মন ক্ষুণ্ণ এবং তার মনে হচ্ছে খেলোয়ারদের যথেষ্ট অসম্মান করছে ক্লাব। রোনাল্ড কোমান মেসিকেও মুখমুখি আলাদা করে সমাদার পাওয়া আশা কেউ না করলেই মঙ্গল হবে। এদিকে

সতীর্থরা লিওনেল মেসির পাশে দাঁড়িয়েছেন। কার্লেস পুয়োল টুইট করেছেন, ‘‘তোমার প্রতি শুধু সম্মান আর মুগ্ধতা রয়েছে, লিয়ো।’’ সুয়ারেস স্মাইলি দিয়ে সেই টুইটকে স্বাগত জানিয়েছেন।প্লেনস এর মতে, ‘‘যা হয়ে গিয়েছে, হয়ে গিয়েছে। বিশ্বের সেরা ফুটবলারকে নেতৃত্বে রেখে আমরা আবার বিজয়ী দল গড়ে তুলতে চাই। বার্সা আর লিয়ো একটা বিয়ের মতো। বিচ্ছেদ কেউ চায় না।’’ শুধু তিনি একা নন, গোটা বার্সেলোনা জুড়ে তোলপাড় চলছে। শহরের মেয়র পর্যন্ত মন্তব্য করেছেন, ‘‘আমি আশা করব, ওরা যা যা করা দরকার সব করবে লিয়োকে ধরে রাখার জন্য। মেসিকে বার্সেলোনাতেই দেখতে চাই।’’ 

জীবনে প্রথম বার বার্সা সম্পর্কে বিষিয়ে ওঠা মেসির মন কি শান্ত হবে ক্লাব প্রধানের কথায়? আগামী কয়েক ঘণ্টাতেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। 

Leave A Reply

Your email address will not be published.